রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন
করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মধ্যেও দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকেও গত বছরের চেয়ে ৮ ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। মূল্যস্ফীতিও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ফলে কমছে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দারিদ্র্য সীমার নিচে মানুষের সংখ্যা বাড়বে।
এক দশকে দ্রুত প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে বিশ্বে নিজেকে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদার পাশাপাশি বেড়েছে মাথাপিছু আয়, জিডিপি। তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে বাড়ছে দারিদ্র্য ও বৈষম্য।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে গড় দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। করোনায় সেই হিসাব আমূল বদলে গেছে। বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণা সংস্থার তথ্য বলছে, করোনার কারণে দেশে নতুন করে ২২ দশমিক ৯ ভাগ মানুষ গরিব হয়েছে। তাদের মতে, নতুন ও পুরনো মিলিয়ে বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে মোট জনসংখ্যার ৪৩ ভাগ।
অর্থনীতিবিদ আবু ইউসুফ জানান, যারা দরিদ্র জনগোষ্ঠী, নতুন ভাবে সৃষ্ঠ জনগোষ্ঠী তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানো। সেই সাথে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা একটি নিদৃষ্ট সময়ের জন্য বাড়ানো।
প্রথমে করোনা, তারপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। লাগামহীন বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। বাড়তে থাকে নিত্যপণ্যের দাম। এমন পরিস্থিতিতে ডলারের বিপরীতে টাকার রেকর্ড অবমূল্যায়ন হয়। সবশেষ জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় সরকার। এতে বাজারে আরেকদফা বাড়তি নিত্যপণ্যের দাম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে। এর ফলে মানুষ ভোগ কমিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে। এতে অপুষ্টি বাড়বে এবং আরও মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে যাবে বলে আশঙ্কা তাদের।